বাংলা সংস্করণসর্বশেষ সংবাদ
Daily24Express

সংবাদের সঙ্গে, প্রতিমুহূর্তে

ফুলছড়িতে ভূমিসেবা অচল, আটকে আছে গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র স্থানান্তর-চরম ভোগান্তিতে সেবাপ্রত্যাশীরা

মোঃ মাহমুদুল হাবিব রিপন, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

ফুলছড়িতে ভূমিসেবা অচল, আটকে আছে গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র স্থানান্তর-চরম ভোগান্তিতে সেবাপ্রত্যাশীরা

‎গাইবান্ধার ফুলছড়ি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের পুরোনো দলিল ও বালাম বই নবনির্মিত নিজস্ব ভবনে স্থানান্তর নিয়ে জটিলতা কাটছে না। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি রেকর্ডপত্র স্থানান্তর ও সংরক্ষণ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে ব্যাহত হচ্ছে ভূমিসেবা। দলিলের জাবেদা ও নকল সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সাত থেকে আট মাস ধরে প্রয়োজনীয় দলিলের নকল পেতে ঘুরেও সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

‎

‎এদিকে, রেকর্ডপত্র স্থানান্তরের কাজে সহযোগিতা চেয়ে ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

‎

‎সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখের স্মারক নং ১০.০৫.৩২২১.০০১.৯৯.০০১.২৬-৪৯ অনুযায়ী, সরকারি রেকর্ডপত্র নবনির্মিত নিজস্ব ভবনে স্থানান্তরের জন্য ১৬ মার্চ সোমবার দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। গজারিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত পুরোনো অফিস থেকে উদাখালী ইউনিয়নের কালিরবাজারে নবনির্মিত ভবনে রেকর্ডপত্র স্থানান্তরের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়। এ কাজে সার্বিক সহযোগিতা চেয়ে ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে আবেদন করার পরও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় রেকর্ডপত্র স্থানান্তর নিয়ে জটিলতা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

‎

‎সাত-আট মাসেও মিলছে না দলিলের নকল

‎

‎সেবা নিতে আসা মানুষের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র না পাওয়ায় জমিজমা-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে দুর্গম চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের দূরদূরান্ত থেকে অফিসে এসে সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সেবা প্রত্যাশীদের মধ্যে।

‎

‎কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের সেবা প্রত্যাশী মাসুদ রানা বলেন, একটি দলিলের জাবেদা নকল তোলার জন্য সাত-আট মাস ধরে ঘুরছি। কিন্তু এখনো তা পাইনি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছি।

‎

‎রেকর্ডপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা

‎

‎ফুলছড়ি দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ছামসুল আলম সরকার বলেন, পুরোনো ফুলছড়ি ঘাটে আমাদের যে পুরোনো অফিস ছিল, সেখানকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নতুন অফিসে বালাম বই ও পুরোনো দলিল আনতে দিচ্ছেন না। পুরোনো অফিসে আলো-বাতাস প্রবেশের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এভাবে রেকর্ডপত্র পড়ে থাকলে বালাম বই ও দলিল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

‎

‎তিনি আরও বলেন, রেকর্ডপত্র মূল ভবনে না থাকায় দুর্গম চরাঞ্চলের সেবা প্রত্যাশীরা জাবেদা ও নকল তুলতে পারছেন না। মূল ভবনে দলিল নিবন্ধন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। এতে দলিল লেখকরা আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। আমরা দ্রুত এ সমস্যার সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।

‎

‎ব্যাহত হচ্ছে সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রম

‎

‎ফুলছড়ি সাব-রেজিস্ট্রার মো. নাজমুল হুদা জানান, বর্তমানে জাবেদা প্রদান ও দলিলের নকল সরবরাহের কাজ স্থগিত রয়েছে। রেকর্ডপত্র নিরাপত্তাহীন অবস্থায় রয়েছে এবং সেগুলো বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মূল দলিল ফেরত দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জনগণকে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া যাচ্ছে না।

‎

‎তিনি বলেন, আদালত, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তল্লাশি ও পরিদর্শন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। রেকর্ডপত্র নবনির্মিত ভবনে স্থানান্তরের বিষয়ে প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে মৌখিকভাবে সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে।

‎

‎দ্রুত সমাধানে প্রশাসনের সহযোগিতা চায় সংশ্লিষ্টরা

‎

‎গাইবান্ধার জেলা সাব-রেজিস্ট্রার জহুরুল ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রশাসনের সঙ্গে লিখিত ও মৌখিকভাবে যোগাযোগ করছি। প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে রেকর্ডপত্র সংরক্ষণ ও স্থানান্তরসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের চেষ্টা করব। আশা করছি, সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে এবং স্বাভাবিক দাপ্তরিক কার্যক্রম চালু করা হবে।

‎

‎সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন ধরে রেকর্ডপত্র স্থানান্তর ও সংরক্ষণ নিয়ে জটিলতা চলতে থাকলে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। এতে জমির মালিকানা-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই, আদালতের প্রয়োজনে নথি সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের ভূমিসেবা আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাহত হতে পারে।

‎

‎এ অবস্থায় সরকারি রেকর্ডপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দ্রুত নবনির্মিত ভবনে সেগুলো স্থানান্তর এবং স্বাভাবিক দাপ্তরিক কার্যক্রম চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সেবা প্রত্যাশী ও দলিল লেখকরা।

পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে। ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করবেন না।