বাংলা সংস্করণসর্বশেষ সংবাদ
Daily24Express

সংবাদের সঙ্গে, প্রতিমুহূর্তে

ময়মনসিংহের ৯ নম্বর ওয়ার্ডকে উন্নয়ন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আরিফ খান।

মোঃ রাসেল ফকির ময়মনসিংহ ব্যুরো প্রধান:

ময়মনসিংহের ৯ নম্বর ওয়ার্ডকে উন্নয়ন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আরিফ খান।

“মানুষের তরে মানুষ হব, এটাই হোক অঙ্গীকার,

অন্যায়-অবিচার দূর করে গড়ব সুন্দর সমাজের দ্বার।

তারুণ্যের শক্তি, মানুষের ভালোবাসা

উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাক আগামীর প্রত্যাশা।”

ময়মনসিংহ মহানগরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডকে উন্নয়ন, নাগরিক নিরাপত্তা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত পরিবেশে গড়ে তোলার প্রত্যাশা নিয়ে সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন জাতীয়তাবাদী যুবদল নেতা আরিফ খান। আসন্ন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে ওয়ার্ডের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী ভূমিকার কারণে কাউন্সিলর পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম আলোচনায় এসেছে।

তবে এখন পর্যন্ত আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল বা প্রার্থিতা ঘোষণা হয়নি। ফলে আরিফ খানের কাউন্সিলর প্রার্থিতার বিষয়টি সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে সামাজিক কর্মকাণ্ডে আরিফ খান

আরিফ খান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত। তাঁর পরিচিতি মূলত দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা জানান।

দলীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তিনি ময়মনসিংহ মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি, ময়মনসিংহ মহানগর কমিটির সহসভাপতি এবং ময়মনসিংহ মহানগর যুবদলের সাবেক পাঠাগার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি অবিভক্ত ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রদলের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক এবং ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্র সংসদের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় দলীয় আদর্শ, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার বিষয়টি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিক বলে সমর্থকেরা উল্লেখ করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও ত্যাগের দাবি

আরিফ খানের রাজনৈতিক সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্কুলজীবন থেকেই তিনি বিএনপির রাজনীতির প্রতি অনুরাগী ছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁদের দাবি, বিগত প্রায় ১৭ বছরের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁকে নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয়েছে এবং পুলিশি নির্যাতনেরও শিকার হতে হয়েছে।

তবে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য, নির্দিষ্ট ঘটনার বিবরণ এবং স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য নথি ছাড়া প্রতিটি দাবিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়। রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার পাশাপাশি জনসেবায় তাঁর ভবিষ্যৎ ভূমিকা কতটা কার্যকর হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত ওয়ার্ড গড়ার প্রত্যাশা

একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও বাসযোগ্য ওয়ার্ড গড়ে তোলা নগরবাসীর অন্যতম প্রত্যাশা। আরিফ খানের সমর্থকেরা মনে করেন, তিনি কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে এলাকার সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং সামাজিক অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করতে পারবেন।

তাঁর প্রত্যাশিত উন্নয়ন ভাবনার মধ্যে রয়েছে, এলাকার সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার, মশা নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত সড়কবাতি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং নাগরিক ভোগান্তি কমাতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।

পাশাপাশি তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও গঠনমূলক সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত করা গেলে মাদক ও অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও অসহায় মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং শ্রমজীবী, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আরিফ খানের সামাজিক পরিচিতির অংশ হিসেবে তাঁর সমর্থকেরা তুলে ধরেন।

তাঁদের মতে, একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব কেবল নির্বাচনের সময় মানুষের কাছে যাওয়া নয়; বরং সারা বছর মানুষের সমস্যা শোনা, প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ানো এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা।

ওয়ার্ডের দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারি সহায়তা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা, অসচ্ছল পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমান নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এসব বিষয় স্থানীয় নেতৃত্বের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা।

নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা, চাই এলাকাবাসীর সমর্থন

আসন্ন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা নিয়ে আরিফ খানকে ঘিরে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নির্বাচনের সময়সূচি ও প্রার্থিতার বিষয়টি অনিশ্চিত।

স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ অব্যাহত রেখে তিনি এলাকাবাসীর আস্থা অর্জন করতে চান বলে তাঁর সমর্থকেরা জানান। তাঁদের প্রত্যাশা, নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলে তিনি উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জবাবদিহিমূলক জনপ্রতিনিধিত্বের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেবেন।

একই সঙ্গে একজন সম্ভাব্য প্রার্থীর যোগ্যতা মূল্যায়নে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি বাস্তব উন্নয়ন পরিকল্পনা, অতীতের সামাজিক কর্মকাণ্ড, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং জনসেবায় জবাবদিহির বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।

জনসেবাই হোক রাজনীতির মূল লক্ষ্য

রাজনীতি তখনই মানুষের কল্যাণে অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন তা ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেয়। একটি ওয়ার্ডের উন্নয়ন শুধু সড়ক, ড্রেন কিংবা অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের নিরাপত্তা, তরুণদের ভবিষ্যৎ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং নাগরিক মর্যাদা।

আরিফ খানের সামনে সম্ভাব্য নির্বাচনী পথচলায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এসব প্রত্যাশাকে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনায় রূপ দেওয়া এবং কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করা।

কবিতার ভাষায় বলা যায়,

“ক্ষমতা নয়, সেবাই হোক পথচলার পরিচয়,

মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই হোক বিজয়ের সঞ্চয়।

অন্যায় রুখে, ন্যায়কে সঙ্গে নিয়ে,

গড়ে উঠুক সুন্দর সমাজ সবার হাত ধরে।”

ময়মনসিংহ মহানগরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার উন্নয়ন, নাগরিক নিরাপত্তা, মাদক প্রতিরোধ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। আরিফ খানও তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সামাজিক সম্পৃক্ততাকে কাজে লাগিয়ে মানুষের পাশে থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বলে তাঁর সমর্থকেরা জানান।

পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে। ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করবেন না।