নৃত্য একাডেমি নিয়ে নমিরার নতুন পথচলা
হৃদয় খান
মডেলিং ও অভিনয়ের পাশাপাশি নৃত্যশিল্পী হিসেবেও পরিচিত তাশদিক নমিরা আহমেদ। এবার নিজের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। রাজধানীর ধানমন্ডিতে চালু করতে যাচ্ছেন ‘ঘুঙরু ড্যান্স একাডেমি বাই নমিরা’। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের জন্য নৃত্যশিক্ষার সুযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
২০১১ সালে ‘ভিট-চ্যানেল আই টপ মডেল’ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন নমিরা। হাজারো প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রতিযোগিতাটির গ্র্যান্ড ফিনালেতে দ্বিতীয় রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি। এরপর মডেলিং ও অভিনয়ে নিয়মিত কাজের মাধ্যমে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। পাশাপাশি নৃত্যশিল্পী হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেন।
নাচের প্রতি ভালোবাসা থেকেই বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে ভর্তি হন নমিরা। সেখানে ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত নৃত্যশিক্ষক হিসেবে বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টসের (বাফা) সঙ্গে যুক্ত থেকে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও অর্জিত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে এবার নিজেই গড়ে তুলছেন নৃত্যশিক্ষার একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান।
নমিরার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘ঘুঙরু ড্যান্স একাডেমি বাই নমিরা’র প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে আগামী মাস থেকে। সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার চলবে ক্লাস। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে ভর্তির নিবন্ধন প্রক্রিয়া। এখানে ক্লাসিক্যাল নৃত্যের পাশাপাশি মডার্ন, ফোক ও ফিউশনসহ বিভিন্ন ধারার নাচ শেখার সুযোগ থাকবে। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নৃত্যবিষয়ক পড়াশোনা, বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
নিজের নতুন উদ্যোগ প্রসঙ্গে তাশদিক নমিরা আহমেদ বলেন, ‘নিজের একটি ইনস্টিটিউশন গড়ে তোলার স্বপ্ন আমার অনেক দিনের। অবশেষে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। এই একাডেমি শুধু ক্লাসিক্যাল নৃত্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এখানে মডার্ন, ফোক, ফিউশনসহ বিভিন্ন ধারার নাচ শেখানোর ব্যবস্থা থাকবে।’
নমিরার মতে, নাচের প্রতি আগ্রহ থাকলেও অনেকেরই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নৃত্য শেখার সুযোগ হয়ে ওঠে না। একসময় ছুটির দিনে শিশু-কিশোরদের নাচ, গান কিংবা ছবি আঁকার ক্লাসে যাওয়ার প্রবণতা ছিল। সময়ের পরিবর্তনে সেই চর্চা অনেকটাই কমে এসেছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই নৃত্যচর্চার প্রসারে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন তিনি।
একাডেমির কার্যক্রম সম্পর্কে নমিরা জানান, এখানে নাচ শেখানোর পাশাপাশি নৃত্যবিষয়ক নিয়মিত পড়াশোনার সুযোগ থাকবে। কোর্স শেষে পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সনদপত্র দেওয়া হবে। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি যেকোনো বয়সী মানুষ এখানে নৃত্যশিক্ষা গ্রহণ করতে পারবেন।
নমিরার প্রত্যাশা, ‘ঘুঙরু ড্যান্স একাডেমি বাই নমিরা’ নৃত্যচর্চার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে নৃত্যশিক্ষাকে আরও বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে দিতে তাঁর এই উদ্যোগ ইতিবাচক অবদান রাখবে বলে আশা করছেন তিনি।
পাঠকের মন্তব্য